শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৬:১১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদঃ
করোনা সংক্রমণ রোধে আতঙ্ক নয়, গণ সচেতনতাই উত্তম...নিরাপদ দুরত্বে পথ চলুন, খাবারের আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন.. নাক, মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন...সবচেয়ে ভালো বাড়ীতেই থাকুন... ধন্যবাদ সবাইকে।
সংবাদ শিরোনামঃ
আড়াইহাজারে দলিল লেখক নুরুল আমীনের ও জাকারিয়া জাকির কাছে জিম্মি সাব-রেজিস্ট্রার অফিস নীলফামারীতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে পোষাক শ্রমিকের মৃত্যু গাজীপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার মজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন উদ্বোধন ভাষাসৈনিক রেজাউল করিমের মৃত্যুতে নতুনধারার শোক গাইবান্ধায় বাদাম বিক্রি করে সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছেন আশিক টঙ্গীতে করোনা টিকা গ্রহণ করে স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু ডিমলায় করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও মাস্ক বিতরণ নোয়াখালী হাতিয়া থানার ওসির বিদায় ও নবাগত ওসিকে বরণ অনুষ্ঠান শীতের পিঠা বিক্রি করে যারা সংসারের চাকা ঘোরাচ্ছেন বিশ্বনাথে গাভীর খামার করে স্বাবলম্বী ফখরুল

নরমাল ডেলিভারিতে অনন্য ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘন্টায় ৮টি প্রসব

নুরকাদের সরকার ইমরান- নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
মা ও শিশুর সুরক্ষা চাই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসব করাই, ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। গর্ভবর্তী মায়েদের নরমাল ডেলিভারি করে সেরকমই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর জেলার ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসরা।

বদলে দিয়েছেন উপজেলার চিকিৎসা সেবার চিত্র।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স মিলে টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সহযোগিতায় উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। তাদের এই উদ্যোগ নজির সৃষ্টি করেছে।

ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার চালুর মাধ্যমে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে শিশুবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

বিশেষ করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসবের উদ্যোগ সফলতা লাভ করায় এটি নীলফামারীর জেলায় মডেল হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং প্রথম স্থান অধিকার করেছে।
চিকিৎসকদের এই মহতি উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়ে সফলতা কামনা করে সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর কবির ইতোমধ্যে বার্তা প্রদান করেছেন।

উপজেলায় অলিগলিতে বেসরকারি হাসপাতাল আর ক্লিনিক হওয়ায় দালাল চক্রের কারণে নরমাল ডেলিভারি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এসব ক্লিনিক এবং হাসপাতালে সেবার পরিবর্তে শুরু হয়েছে প্রসূতি সিজারের নামে এক ধরনের ব্যবসা। আর অর্থের লোভে তাদের হয়ে কাজ করছে একটি দালাল চক্র।

আবার গ্রামাঞ্চলে কিছু অদক্ষ, প্রশিক্ষণবিহীন ধাত্রী রয়েছেন যারা স্থানীয় ভাবে দাই মা বলে পরিচিত। এই দায় মার কারণে প্রসূতি মায়েদের মৃত্যু ঝুঁকি থাকে এমনকি মৃত্যুও ঘটে। এমন অনেক ঘটনার নজির রয়েছে এলাকায়। ক্লিনিকেও প্রসূতি ও শিশু মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে।

এমন এক পরিস্থিতিতে সিজারের নামে বাণিজ্য, দালাল চক্র এবং অদক্ষ ধাত্রীর হাত থেকে প্রসূতি মায়েদের রক্ষায় এবং নিরাপদে নরমাল ডেলিভারি করাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো.রায়হান বারীর নেতৃত্বে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন চিকিৎসক ও ১২ জন মিডওয়াইফ নার্স টিম ওয়ার্ক শুরু করেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ডিসেম্বর মাসে ১০৩টি নরমাল ডেলিভারি হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে এই ১১ তারিখ পযন্ত প্রায় ৩১টি নরমাল ডেলিভারি করা হয়েছে ও ১১ই জানুয়ারী গত ২৪ ঘন্টায় ৮টি প্রসূতি মায়ের নরমাল ডেলিভারি করা হয়েছে এ সংবাদ শুনে নীলফামারী সিভিল সার্জন ডাঃ জাহাঙ্গীর কবির ছুটে এসে প্রসূতি মায়েদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন।

নরমাল ডেরিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসব করতে প্রসূতিদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রচারণায় তারা বিভিন্ন কৌশলও কাজে লাগিয়েছেন। এজন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে প্রসূতি নারীদের বিনামূল্যে ‘প্রসূতি কার্ড’ দেয়া হয়। এরপর ডেলিভারি না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে কাউন্সেলিং আর ফ্রি চেকআপ।

প্রসূতি কার্ড ও নরমাল ডেলিভারি করাতে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষক, চেয়ারম্যান-মেম্বার, ইমাম ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন এনজিওর স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছানো হয় প্রসূতি মায়েদের কাছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরাও নিজেরা বিভিন্ন স্থানে গিয়ে কাউন্সিলিং প্রদান করেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ টিম ওয়ার্কে রয়েছেন ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রায়হান বারী, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তপন কুমার রায় সকল মেডিকেল অফিসাররা।

প্রথম দিকে খুব একটা সাড়া না পেলেও এই টিম ওয়ার্কের ধারাবাহিকতায় হাসপাতালে এসে নরমাল ডেলিভারি করানোর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই।

ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের সরকার পাড়া গ্রামের মোঃ রুবেল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ পারভিন আকতার(৩৩)। তার ৩ সন্তান। শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দিয়েছেন এই প্রসূতি।

অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে মোছাঃ জেসমিন আকতার জানান- দেরি করে সন্তান নেয়ায় ও এলাকার কিছু লোকের কথায় ভয় পেয়েছিলাম। অনেকে ক্লিনিকে সিজার করার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠকর্মী এবং চিকিৎসকরা অভয় দিয়ে দায়িত্ব নিলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হই। এখানে নরমাল ডেলিভারিতে আমার সন্তান জন্মলাভ করেছে। আমি এবং ছেলে এখন সুস্থ্য আছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রায়হান বারী জানান- এ হাসপাতালে ডেলিভারি নিরাপদ করতে ১২ জন দক্ষ মিডওয়াইফ ও একজন ডাঃ সার্বক্ষনিক রয়েছেন। ডেলিভারি হওয়ার পর জন্ম নেয়া শিশুর জন্য জামা-কাপড়, মশারি ও ওই শিশুর মাকে উপহার দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দিন দিন নরমাল ডেলিভারিতে প্রসূতিদের আগ্রহ বাড়ছে। কারণ হাসপাতালে নিরাপদে এ ডেলিভারি করানো হলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে না। পাশাপাশি কোনো প্রকার খরচ করতে হয় না রোগীর স্বজনদের।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

আর্কাইভ

SatSunMonTueWedThuFri
22232425262728
293031    
       
  12345
2728     
       
    123
18192021222324
       
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
©  2019 copy right. All rights reserved © 71sangbad24.com ltd.
Design & Developed BY Hostitbd.Com