সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদঃ
করোনা সংক্রমণ রোধে আতঙ্ক নয়, গণ সচেতনতাই উত্তম...নিরাপদ দুরত্বে পথ চলুন, খাবারের আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন.. নাক, মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন...সবচেয়ে ভালো বাড়ীতেই থাকুন... ধন্যবাদ সবাইকে।
সংবাদ শিরোনামঃ
শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ১০৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা রংপুরে সেচ্ছাসেবী সংগঠনের জয়ী স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ নড়াইলে শীতার্তদের কম্বল বিতরণ পীরগঞ্জে বন বিভাগের উপকারভোগীদের ভাগ্যে দীর্ঘদিনেও মিলছেনা লভ্যাংশ রাজশাহীর তানোরে কথিত সাংবাদিকতার আড়ালে চলছে মাদক ব্যবসা- গ্রেফতার ৪ মন্ত্রী-এমপিদের স্বাক্ষর জাল করে চাকুরী ব্যবসার ঘটনায় প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার নীলফামারীতে মাটি কাটা থেকে বাদ পরায়, শ্রমিকদের প্রতিবাদে মানববন্ধন দেশ বরেণ্য ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় আইনবিদ সাবেক বিচারপতি টিএইচ খানের জানাজা সম্পন্ন রাজশাহীতে মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট‘র নতুন ভবনের উদ্বোধন রাজশাহী মহানগরীতে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৬০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ১ মাদক ব্যবসায়ী আটক

নিত্যপণ্যের চড়া দামে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস

বর্ণালী জামান বর্ণা- নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
একদিকে করোনা মহামারী ও বন্যার ভয়াবহতাকে ঘিরে জীবন-জীবিকায় বিপর্যয়ের মুখে জনসাধারণ। কমে গেছে হাজারো মানুষের আয়-রোজগারের পথ। এ অবস্থায় হুমকির মুখে পড়েছে নিম্ম- মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। এমন সংকটকালে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস উঠেছে স্বল্প আয়ের মানুষের মাঝে।

বাজারে বেশ কয়েকমাস ধরেই চাল, তেল,ডিম, মুরগি,সবজিসহ অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে জনসাধারণের আর্তনাত।

রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা
গেছে, হালিপ্রতি ফার্মের মুরগীর ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা,পাকিস্তানি ডিম ৩০টাকা,হাঁসের ডিম ৫০ টাকা, দেশী মুরগির ডিম ৬৫ টাকা বলে জানান স্টেশন বাজারের ডিম ব্যবসায়ী আরমান ।

রংপুর সিটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২টাকা, নাজিরশাইল কেজিপ্রতি ৬৪-৬৫ টাকা, বি-আর২৮ ৫৪-৫৬ টাকা, বি-আর ২৯, ৫০-৫২ টাকা, গুটি স্বর্ণা ৩৮-৪০ টাকা, কাটারিভোগ ৬২-৬৫ টাকা, চিনিগুড়া ৮৫-১০০টাকা। আমদানি না থাকায় বর্তমান বাজারে পাইজাম নেই বলে জানান সিটি বাজার চাল ব্যবসায়ী মুস্তাকিম বিল্লাহ।

বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- এ সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ১৩০ টাকা, কোম্পানীভেদে বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৪০-১৪৮ টাকা।

এদিকে খোলা আটা কেজিপ্রতি ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা ও প্যাকেট আটা ৩৫ টাকা। ময়দা ৪০-৪৫ টাকা, চিনি ৭৮-৮০ টাকা, মসুর ডাল (মোটা) কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা বেড়ে ৭৫-৮০ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) ১০০-১১০ টাকা জানান ব্যবসায়ী পলক কুমার।

সিটি বাজারে বাজার করতে আসা আবু সাঈদ বলেন- দীর্ঘদিন যাবত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।

চাল, তেল, ডাল, চিনি, মুরগিসহ সবজিও কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। কমছে না নিত্যপণ্যের দাম। দিনের দিন বাজারে হয়রানি বেড়েই যাচ্ছে আমার মতো অসংখ্য ক্রেতাদের। প্রতিমাসে যে টাকা বেতন পাই চড়া দামে ভোগ্যপণ্য কিনে সংসার চালানো খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

এদিকে অপরিবর্তিত রয়েছে গরু/খাসির মাংসের দাম। গরু মাংস কেজিপ্রতি ৫৫০-৫৬০ টাকা। খাসির মাংস কেজিপ্রতি ৭০০-৮০০ টাকা বলেন মাংস ব্যবসায়ী আজিজউদ্দিন।

এদিকে মুরগির দাম কিছুটা কমে ব্রয়লার মুরগি দাম কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকা । লেয়ার মুরগি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২২০- ২৪০ টাকা। দেশী মুরগি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ -৪১০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ২০০ টাকা বলেন স্টেশন বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী আব্দুল কালাম।

তিনি আরও বলেন- গত সপ্তাহের তুলনায় দাম কিছুটা কমেছে। তবে খামারে মুরগির উৎপাদন বাড়লে দাম আরও কমবে। আবারও বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে ফলে বাজারে ক্রেতার সমাগম বাড়বে। আমদানির উপর নির্ভর করে দাম ওঠা-নামা করে।

এদিকে আমদানি থাকলেও ইলিশ মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে এবং অন্যান্য রকমারি মাছের দাম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান সিটি বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা। রুই কেজিপ্রতি (আকারভেদে) ১৪০-২২০ টাকা, পাবদা ২৪০-৩২০ টাকা, শিং(আকারভেদে) ২০০-২৪০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০ টাকা, ইলিশ (আকারভেদে )৭০০-৯৫০ টাকা, শাটি ১৯০-২৮০ টাকা, চিংড়ি (আকারভেদে) ০০-১০০০ টাকা, দেশী মাগুর ৪৮০-৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৩০ টাকা, কার্পু ১৮০ টাকা, শৌল (আকারভেদে) ২৫০-৪৫০ টাকা, গচি ৪৫০-৫০০ টাকা,চিতল ৪০০ টাকা, সিলভার কার্প১২০- ২০০ টাকা, টেংনা ৩০০-৩২০ টাকা, বাইম ৭০০-৮০০ টাকা। আমদানি খানিকটা কম থাকায় সবজির বাজারে ধ্বস।

চড়া মূল্যে সবজি কিনতে বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার নাভিশ্বাস। বিভিন্ন সবজির বাজার ঘুরে জানা গেছে, কার্টিনাল আলু ২০ টাকা, শিল আলু ৩০ টাকা, সাদা আলু ২৫ টাকা,ঝাউ আলু ২০ টাকা, পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩৫-৪০ টাকা, আদা ৮০-১২০ টাকা, রসুন ৮০-১৬০ টাকা,কাঁচামরিচ ৮০-১২০ টাকা, শুকণা মরিচ ২৫০-৩০০ টাকা,বেগুন ৩৫-৬০ টাকা, লাউ ২০-২৫ টাকা, করলা ৬০ টাকা, পটল ২৫-৩০ টাকা, ঢেড়স ৫০ টাকা, পানি কুমড়া ২৫-৩০ টাকা, কচুর বই ৪০-৪৫ টাকা, পেঁপে ৩০-৩৫ টাকা, কাকরোল ২৮-৩০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা,গাজর ১৪০ টাকা, কাঁচাকলা প্রতিহালি ২৫-৩০ টাকা বলেন সবজি ব্যবসায়ীরা ।

তারা আরও বলেন- সবজি উৎপাদনের স্থানগুলোতে বন্যা হয়ে বুক সমান পানিতে রয়েছে কৃষকেরা। এই বন্যায় প্রতি বছরের মতো এবারেও বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তারা। বন্যার প্রাদুর্ভাবের কারণেই সবজির বাজার গরম। ফলো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্টেশন বাজারে সবজি কিনতে আসা দিলরুবা বলেন, স্বামী নাই বাসা বাড়িত কাজ করি ছইল- পোইল নিয়া সংসার চালাই। মুই (আমি) গরীর মানুষ ভর্তা ভাত খ্যায়া (খেয়ে)বাঁচবার চাই।

কিন্তু প্রত্যেকটা (প্রতিটি) জিনিসের আগুন দাম। শাক-সবজিতো হাত দেওয়া যায় না দাম শুনিয়্যা। মাছ-গোশতো চোখে দ্যাকোনা এখন সবজিও আর কিনি খাওয়া যাওছে না। সউক জিনিসের দাম কি খ্যায়া বাঁচিম(বাঁচবো), হামার (আমার)গুলার মরণদশা ! এমনটি করেই মনের আকুতি প্রকাশ করেছেন অসহায় দিলরুবা।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

আর্কাইভ

SatSunMonTueWedThuFri
15161718192021
22232425262728
293031    
       
  12345
2728     
       
    123
18192021222324
       
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
©  2019 copy right. All rights reserved © 71sangbad24.com ltd.
Design & Developed BY Hostitbd.Com