রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদঃ
করোনা সংক্রমণ রোধে আতঙ্ক নয়, গণ সচেতনতাই উত্তম...নিরাপদ দুরত্বে পথ চলুন, খাবারের আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন.. নাক, মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন...সবচেয়ে ভালো বাড়ীতেই থাকুন... ধন্যবাদ সবাইকে।
সংবাদ শিরোনামঃ
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার ময়মনসিংহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট-২০২২’র সংবর্ধনা ত্রিশালে এই প্রথম মনোরম পরিবেশে রিভার কক্সস্ বারবিকউ এন্ড পার্টি সেন্টার বকশীগঞ্জে কারিগরি শিক্ষালয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পিঠা উৎসব হ্যালো রংপুর গ্রুপের নারী উদ্যোক্তাদের সম্মাননা স্মারক প্রদান টঙ্গীতে মাদক সন্ত্রাস চাঁদাবাজি মুক্ত রাখার নিমিত্তে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত তারাগঞ্জে আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে গৃহবস্ত্র বিতরণ নীলফামারীতে নিজ ঘরে আগুন লাগিয়ে অন্যকে ফাঁসানোর চেষ্টা রংপুরের তারাগঞ্জে বসতবাড়ীতে অগ্নিকান্ড জলঢাকায় নবাগত ইউএন ও এর সাথে সুধীজনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নীলফামারীর ডিমলায় মা ও মেয়ে একসাথে দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

শামীম ইসলাম- ডিমলা(নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর ডিমলায় বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মেয়ের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া মা মারুফা আকতার এবার মেয়ের সাথে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।

মেয়ে শাহী সিদ্দিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আর মা মারুফা আকতার একই কলেজের বিএম শাখা থেকে। তারা দুজনেই উপজেলার শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব সরকারী মহাবিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী।

এর আগে ২০২০ইং সালের এসএসসি পরীক্ষায় একসাথে অংশ নিয়ে মেয়ের চেয়ে ভালো ফলাফল করেন মা। মা মারুফা আকতার পেয়েছিলেন জিপিএ ৪ দশমিক ৬০ এবং শাহী সিদ্দিকা জিপিএ ৩ দশমিক ০০।

জানা যায়- ২০০৩ইং সালে দশম শ্রেণীতেই লেখাপড়া শেখার অদম্য ইচ্ছে বুকে ধারণ করে মারুফা আকতারকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছিল।

বিয়ের পর বন্ধ হয়ে যায় লেখাপড়া। পিঠাপিঠি চার ছেলেমেয়েকে মানুষ করতেই ১৫টি বছর চলে গেল তার। সচরাচর কোনো কিশোরীর লেখাপড়ার ইচ্ছেশক্তি আর এত বছর থাকেনা। কিন্তু মারুফা আক্তার দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে জয় করা যায় ইচ্ছাশক্তি দিয়ে।

তিনি এবার নিজের মেয়ের সঙ্গেই এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।

মারুফা আক্তারের বাবার বাড়ি নীলফামারী ডিমলার নাউতারা গ্রামে। বিয়ে হয় একই উপজেলার খালিশা চাপানি ইউনিয়নের পুন্যারঝার গ্রামে। স্বামী সাইদুল ইসলাম পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী।

দুই ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে মেয়ে শাহী সিদ্দিকা বড়। দ্বিতীয় ছেলে দশম শ্রেণী, তৃতীয় মেয়ে অষ্টম শ্রেণী ও ছোট মেয়ে পঞ্চম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত।

নতুন করে পড়াশোনা শুরুর বিষয়ে জানতে চাইলে মারুফা আক্তার জানান- ২০০৩ইং সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার প্রতি তাঁর কঠিন আগ্রহ ছিল। কিন্তু পরীক্ষার আগেই বিয়ে হয়ে যায় তার তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্রী। বিয়ের পর চার ছেলেমেয়েকে মানুষ করতে নিজের পড়ার কথা ভাবার সময়ই হয়নি।

পরে নিজের অদম্য ইচ্ছা ও স্বামী ও সন্তানদের অনুপ্রেরণায় নবম শ্রেণি থেকে শুরু করতে হলো তার লেখাপড়া। ভর্তি হন ছোটখাতা ফাজিল মাদ্রাসায়। সেবার মেয়েও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এরপর ২০২০ইং সালে মেয়ের সাথে এস এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হন তিনি।

এই বয়সে এসেও কেন পড়াশোনা করতে চাইলেন, জানতে চাইলে মারুফা বলেন- সমাজের আর দশটা মানুষের মতো আমিও একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে যাতে নিজের পরিচয় দিতে পারি।

এ জন্যই কষ্ট করে পড়াশোনাটা আবার শুরু করেছি। ইচ্ছে আছে এইচএসসি পাশ করে দেশের ভালো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার।

মারুফা আক্তারের স্বামী সাইদুল ইসলাম বলেন- আমি তার ইচ্ছেটার মর্যাদা দিয়েছি। সে যতদূর পড়াশোনা করতে পারে, আমি চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করবো।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

আর্কাইভ

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
2627282930  
       
  12345
       
    123
       
   1234
262728    
       
293031    
       
  12345
2728     
       
    123
18192021222324
       
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
©  2019 copy right. All rights reserved © 71sangbad24.com ltd.
Design & Developed BY Hostitbd.Com
error: কপি করা যাবে না !!