Monday, April 22, 2024
Homeরংপুর বিভাগরংপুর জেলাপ্রধানমন্ত্রী গরীবের জন্য বরাদ্দ দেয় আর চোরেরা চুরি করে খায়!

প্রধানমন্ত্রী গরীবের জন্য বরাদ্দ দেয় আর চোরেরা চুরি করে খায়!

হারুন-অর-রশিদ- বিশেষ প্রতিনিধিঃ
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ২নং পারুল ইউনিয়নে ‘ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট ভিডব্লিউবি প্রকল্প’ বাস্তবায়নে অনিয়মের বর্ণনা দিতে গিয়ে অসহায় এক নারী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীবের জন্য বরাদ্দ দেয়, আর চোরেরা চুরি করে খায়।

কর্মসৃজন কর্মসূচিতেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এই ইউনিয়নে। বর্তমান পরিষদ গঠনের পর থেকেই সরকারি প্রকল্প বন্টন ও বাস্তবায়নে খবরদারীর অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে।

পারুল একটি ফুলের নাম, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় প্রত্যেক দেশে সকলের পছন্দীয় নামটি পারুল। বাংলা চলচিত্রে বহুল আলোচিত চরিত্রের নামও পারুল। নাটক, সিনেমা, গান, ছন্দ, প্রবন্ধ সবখানেই পারুল একটি গ্রহণযোগ্য চরিত্র। সর্বাধিক পছন্দনীয় এই সুগন্ধি ফুলের নামে নিজেদের কন্যার নামও রাখেন অনেকেই।

কন্যা মানেই তো মা, আর মা বরাবরই ফুলের চাইতেও প্রিয় ও সুন্দরই হয়। সুন্দরে ঘেরা পীরগাছা উপজেলার ভৌগোলিক একটি এলাকার নামকরণ কোন এক রাজ কন্যার নামেই রাখা হয়েছে পারুল। বাংলাদেশের ৪৫৪৬ ইউনিয়নের মতো পারুল একটি ইউনিয়ন, একই নিয়মে চলার কথা থাকলেও এই পারুলের বেলায় অদৃশ্য এক ভিন্নতা!

যা এলাকার পাগলেও বুঝে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রদেয় নিয়ম-নীতি যেন পারুলের ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জলের “আমদে গাওয়া মনভোলা সংগীত” ছাড়া আর কিছুই নয়! গেল কয়েক মাস পূর্বে তিনি গণমাধ্যমকে চ্যালেঞ্জ করে একটি কথা বলেছিলেন, “আমার একটা অনিয়ম দেখাতে পারলে চেয়ারম্যানী ছেড়ে দিবো” তারপর থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে থলের বেড়াল। (পরবর্তী পর্বে থাকবে দুর্নীতির গভীর গল্প)।

উত্তরের জেলা রংপুরের ঠিক পূর্বদিকের সীমান্ত ঘেষা উপজেলাটির নাম পীরগাছা। এটি রংপুরের সংসদীয় আসন ৪-এর একটি বৃহৎ অংশ। এখানকার স্থানীয় সাংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুনশি। তারই আস্থাভাজন আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন ২নং পারুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। সাম্প্রতিক সময়ে এটি যেন দুর্নীতির অভয়ারণ্য হিসেবে রূপ নিয়েছে। একাধিক অভিযোগ খোদ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় জনসাধারণ থেকে সচেতন মহলের, এমনকি ইউপি সদস্যরাও ক্ষুব্ধ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেনের প্রতি। ক্ষোভের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বর্তমান সরকার প্রধানের খ্যাতিমান শ্লোগান “শেখ হাসিনার বারতা নারী পুরুষ সমতা” যখন বিশ্বজুড়ে সুনাম অর্জন করছে। ঠিক সেই মুহূর্তে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে বেশ মরিয়া এই পরিষদ। তারই ধারাবাহিকতায় ‘ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট’ (VWB) প্রকল্প বাস্তবায়নে পারুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির হাত ধরেই ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারীতার অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে অস্বচ্ছল, তালাকপ্রাপ্তা বিধবা, সুবিধাবঞ্চিত, হতদরিদ্র, ভূমিহীন নারীর জীবনচক্র মান উন্নয়নে বরাদ্দকৃত ভিডব্লিউবি কার্ড বিতরণে সরকারি পরিপত্রের কোন তোয়াক্কাই করেনি এই পরিষদ। ইউপি সদস্যদের অভিযোগ বর্তমান চেয়ারম্যান সুসম বন্টনের ব্যাপারে বেশ উদাসীন, যে প্রকল্পই আসুক সবার আগে উনি ফিফটি পার্সেন্ট নেন। ইউপি সদস্যদের বরাদ্দ রেশিও অনুযায়ী বাস্তবায়নের কথা থাকলেও সে কথা শুনতেই পারে না এই চেয়ারম্যান।

একাধিক ইউপি সদস্যের দাবী বিষয়টি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তছলিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মাহমুদ মিলন, জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল হান্নান মন্ডল এমনকি স্থানীয় সাংসদ তিনিও অবগত। এর আগে ইউপি সদস্যরা দালাল হঠাও আন্দোলন শুরু করলে, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। অত্র ইউনিয়নের সচেতন মহলের অভিযোগ বর্তমান চেয়ারম্যান অনেক টাকা খরচ করে চেয়ারে বসেছে সেবা করতে নয়। তার লক্ষ ও উদ্দেশ্য একটাই কিভাবে নির্বাচনে ব্যয়ের টাকা তুলবেন। তাইতো দুই বাপ ছেলে আদাজল খেয়েই মাঠে নেমেছে। অভিযোগ আছে ক্ষমতায় বসেই বয়স্ক ভাতার প্রায় ৬ লাখ টাকার দান মেরেছে বাপ ছেলে মিলে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজসে শতাধিক ভাতাভোগীদের নামে আসা, সরকারি বরাদ্দের ছয় হাজার করে টাকা নিজস্ব সীমে ট্রান্সফার করে নিয়েছে চেয়ারম্যান ও তার সুযোগ্য পুত্র সুমন। বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতাও গায়েব হয়েছে এই চেয়ারম্যানের আমলেই!

উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সবকিছু জেনেও কোনই ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতেই ঘাপটি মেরে আছেন সমাজসেবার বড় বাবুরা। জনগণের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ লুটে নেয়ার কারণ জানতে চায় উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ নাগরিক।

ভিডব্লিউবি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অত্র ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ভিডব্লিউবি প্রকল্পের চূড়ান্ত তালিকার ক্রমিক নং-২ আফরোজা বেগম NID ৫০৯১২৭৭৮০৫ অভিভাবক আসাদুজ্জামান গ্রাম অভিরাম। পাকা বাড়ি ও দুই একরের বেশী সম্পত্তির মালিক তারা। একই ওয়ার্ডের ছুফিয়া বেগম (৩৬) NID ৬৪৪১২৮০৯৫২ অভিভাবক আ: সাহেদ গ্রাম কিসামত ছেচাকান্দি তারও আছে পাঁকা বাড়ি প্রায় ৭২ শতাংশ সম্পত্তির মালিক এই পরিবার।

উপজেলার সৈয়দপুর বাজারে ছেলের ঔষধ ফার্মেসি আছে। অভিযোগ আছে পারুলের দাদন ব্যবসায়ী মোকসেদ আলীর স্ত্রী রহিমা খাতুন (৩৭) NID ১৯৮৫৮৫১৪৯৮৭৪২৯৮৪৬ গ্রাম: অভিরাম, প্রায় দেড় একরের বেশী সম্পত্তির মালিক এই পরিবার। পৈত্রিকসূত্রে ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেনের আপন ছোট ভাই। দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিডব্লিউবির কার্ড কিভাবে পেলেন এমন প্রশ্ন অনেকের।

একটি সুত্র বলছে, ভিডব্লিউবি প্রকল্পের প্রায় ৩৫/৪০ জন সুবিধাভোগী নারীর নামে বরাদ্দকৃত চাল চেয়ারম্যান ও তার লোকজন নিজেরাই উঠিয়ে নিয়ে কালো বাজারে বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অসহায় নারী অভিযোগ করে বলেন, যারা এখনো কার্ড নিতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে টাকা দিতে পারেনি তাদের চাল চেয়ারম্যান নিজের লোকদ্বারা তুলে নেন। এই ইউনিয়নে ভিডব্লিউবি প্রকল্পের সুবিধা অনেককেই গুণতে হয়েছে ৫ থেকে দশ হাজার টাকাও।

সরেজমিন তদন্তে দেখা গেছে, ৭নং ওয়ার্ড পশ্চিম পারুল মৌজার আরজিনা বেগম পিতা আজহার আলী স্বামী শাহাদাৎ হোসেন। NID ৪৬৪০৯০২৬০৯ ভিডব্লিউবি প্রকল্পের চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকার পরেও চাল পায়নি। সরকারি হিসেব মোতাবেক তার চাল নিয়মিতভাবে উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে সুবিধাভোগী হয়েছে বঞ্চিত। আরজিনা বেগম সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট চাল চোরের বিচার চেয়েছেন।

একই ওয়ার্ডের কিসামত পারুল গ্রামের আলীজা বেগম, পিতা ছলেমান, স্বামী দেলোয়ার হোসেন পন্ডিত NID ১৯৮৮৮৫১৭৩৬৬১০৮৫০৬ এই নামেও বরাদ্দ হয়েছে VWB কার্ড। চলতি বছরের ৫ মাসে শেখ হাসিনার খাদ্য সহায়তা প্রকল্পের প্রতি মাসে ৩০ কেজি হিসেবে ১৫০ কেজি চাল তুলে নিয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন। আলীজা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী গরীবের জন্য বরাদ্দ দেন আর চোরেরা চুরি করে খায়? আমি আমার নামে সরকারি বরাদ্দের সমস্ত চাল ফেরতসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট চাল চোরের উচিৎ বিচার চাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পারুল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত একাধিক ওয়ার্ড ইউপি সদস্য অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, ভাই এই উপজেলায় ১০৪ জন মেম্বার আছে আমরা সবাই একে অপরকে চিনি ও জানি, আমাদের মাঝে কথাবার্তাও হয়। তবে সবচাইতে অযোগ্য চেয়ারম্যান আমাদেরটাই। এর না আছে বুক না আছে পিঠ। আজ পর্যন্ত আমাদের পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসেবটা পর্যন্ত দেয়নি।

অথচ আমাদের ইউনিয়নে দেউতি বাজার ৫৫ লাখ ও সৈয়দপুর বাজার ১১ লাখ টাকার ডাক হয়। দু’টি আলুর কোল্ড স্টোরেজ দু’টি পেট্রোল পাম্প, একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন, দু’টি ইটভাটা, একটি ব্লোক নির্মাণের অটো ভাটা। ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধন, হোল্ডিং ট্যাক্স, ভূমির খাজনা, ভূমি ক্রয় বিক্রয়সহ পরিষদের নানাবিধ উৎস থেকে আয়কৃত অর্থের কোন হিসেব আজ পর্যন্ত আমাদের জানায়নি।

নিয়মিত মাসিক মিটিংয়েও অনিহা এই চেয়ারম্যানের। হিসেব চাইতে গেলেই চেয়ারম্যানের চোখ রাঙ্গানী এটি নতুন কিছু নয়। বর্তমান চেয়ারম্যান যেভাবে খায় তাতে সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। চেয়ারম্যানের খাওয়ার হিসেব করতে গিয়ে জানা যায়, তিনি বিভিন্ন কৌশলে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন। অসহায় অস্বচছল পরিবারের জন্য চালুকৃত কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্প থেকেই প্রতিবছর কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেন চেয়ারম্যান।

একাধিক সূত্রে অভিযোগ প্রকৃত সুবিধা যাদের পাবার কথা তাদের বঞ্চিত করে তোফাজ্জল চেয়ারম্যান বৃত্তবানদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রের অর্থ তসরুপ করছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে পারুল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাইদুল ইসলাম সাইদ ও তার প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তছলিম উদ্দিন ও পারুল ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনের আস্থাভাজন হওয়ায়, ৪০ দিনের কর্মসূচিতে তাদের দেয়া হয়েছে এক অলৌকিক সুবিধা। কোনদিন মাঠে না গেলেও নিয়মিত সরকারি ভাতা পান বিত্তবান পরিবারের এই মানুষগুলো।

উল্লেখিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে পারুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এগুলো সব মিথ্যা কথা আমার ইউনিয়নে কোন অনিয়ম দুর্নীতি হয়নি। বিত্তবান পরিবার কি করে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রকল্প ভোগ করতে পারে, আপনারা যাছাই বাছাই করার পরেও? উত্তরে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, লটারীর মাধ্যমে যা সেটাই আছে। এখানে আমার কিছুই করার নাই। চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে পরিষদের ৪/৫ জন মেম্বার।

ভিডব্লিউবি প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সেলোয়ারা বেগম বলেন, প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের সমন্বয়ে যাছাই বাছাই কমিটি করে দেয়া হয়েছিল। তারপরও যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভিডব্লিউবি প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি নীতিমালার অনুসরণ করা হয়নি, কি কারণে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হক সুমন ও উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় রংপুর, জিলুফার ইয়াসমিনকে অসংখ্যবার তার সরকারি নাম্বারে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

ভিডব্লিউবি প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. চিত্রলেখা নাজনীন বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কাজে যারাই জড়িত থাকুক তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments