সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ১১:১৩ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদঃ
করোনা সংক্রমণ রোধে আতঙ্ক নয়, গণ সচেতনতাই উত্তম...নিরাপদ দুরত্বে পথ চলুন, খাবারের আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন.. নাক, মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন...সবচেয়ে ভালো বাড়ীতেই থাকুন... ধন্যবাদ সবাইকে।
সংবাদ শিরোনামঃ
শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ১০৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা রংপুরে সেচ্ছাসেবী সংগঠনের জয়ী স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ নড়াইলে শীতার্তদের কম্বল বিতরণ পীরগঞ্জে বন বিভাগের উপকারভোগীদের ভাগ্যে দীর্ঘদিনেও মিলছেনা লভ্যাংশ রাজশাহীর তানোরে কথিত সাংবাদিকতার আড়ালে চলছে মাদক ব্যবসা- গ্রেফতার ৪ মন্ত্রী-এমপিদের স্বাক্ষর জাল করে চাকুরী ব্যবসার ঘটনায় প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার নীলফামারীতে মাটি কাটা থেকে বাদ পরায়, শ্রমিকদের প্রতিবাদে মানববন্ধন দেশ বরেণ্য ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় আইনবিদ সাবেক বিচারপতি টিএইচ খানের জানাজা সম্পন্ন রাজশাহীতে মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট‘র নতুন ভবনের উদ্বোধন রাজশাহী মহানগরীতে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৬০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ১ মাদক ব্যবসায়ী আটক

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা- দিল্লিতে প্রতিবাদ বৈঠক ও সময়ের দাবি

৭১সংবাদ২৪.কম- বহির্বিশ্বঃ
আজ দিল্লি Constitution Hall of India তে World Hindu struggle committee এর আহ্বানে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সাম্প্রদায়িক সিরিজ হামলার প্রতিবাদে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- ভারতের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্গ।

সভায় WHSC সভাপতি শ্রী শিপন কুমার বসু বাংলাদেশে হিন্দুদের বর্তমান দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন- বাংলাদেশকে হিন্দু শুন্য করার লক্ষ্যে হেফাজতের প্রেসক্রিপশনে কাজ করছে শেখ হাসিনা। যারাই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে এগিয়ে এসেছে তাদেরকে জেলে ভরে রেখে প্রতিবাদের কন্ঠ রোধ করছে শেখ হাসিনা। এইভাবে চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যে আফগানিস্তানের অবস্থা হবে বাংলাদেশে।

প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন- WHSC Chief Financial Advisor শ্রী প্রসন্ন কুমার রায়।তিনি ভারত সরকারের নিকট আবেদন জানিয়েছেন, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে সেই ব্যাপারে দৃষ্টিপাত করতে। শ্রী প্রসন্ন কুমার রায় মহাশয়ের বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলঃ

“আপনারা প্রত্যেকে কমবেশি অবগত আছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটে চলা নির্মম সাম্প্রদায়িক হামলার কথা। কোনো সভ্য সমাজে প্রশাসনের সামনে ঘটে চলা এমন ঘটনা নজিরবিহীন। সাজানো কোরআন অবমাননার ঘটনায় গত ১৩ই অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর চরম নির্যাতন করে চলেছে সে দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মৌলবাদী দুষ্কৃতীরা। সারা বিশ্বে ১৫০টি দেশে যার জন্য প্রতিবাদ কর্মসূচী পালিত হচ্ছে।

সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে ২০০টির বেশী স্থায়ী ও অস্থায়ী মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে, হিন্দুদের প্রায় ৫০০টি বাড়িতে হামলা, লুঠপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। দুষ্কৃতিদের আক্রমণে এখনও পর্যন্ত ১১ জন নিহত হয়েছে, ৭ জন এখনও নিখোঁজ।

গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ৯ জন হিন্দু নারী- তার মধ্যে ১ জন ১০ বছরের বাচ্চা মেয়েও আছে। গণধর্ষণের মত নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে বাচ্চা মেয়েটি পরেরদিন মারা যায়।

এই হামলা লুঠপাট অগ্নিসংযোগ সবই হয়েছে প্রশাসনের সামনে। সরকার না চাইলে সেই দেশে এতবড় সাম্প্রদায়িক সিরিজ হামলা হতে পারে না। হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার কারণে প্রায় প্রতিদিন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে গ্রেফতার করছে বাংলাদেশের প্রশাসন। এমন ভাবে ভীত সন্ত্রস্ত করা হচ্ছে যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ সত্যিটা তুলে ধরতে সাহস না পায়।

বিশ্বে প্রথম দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভাগ হয়েছিল ভারতবর্ষ। তার মূল্য বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে এখনও দিয়ে চলেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। বিশ্বের যে কোন প্রান্তের জিউস সম্প্রদায়ের মানুষ যেমন ইজরায়েলের নাগরিক, তেমনি বিশ্বের যেকোন প্রান্তের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে ভারতের নাগরিকের স্বীকৃতি দেয়া এখন সময়ের দাবি।

একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় ভারতের সক্রিয় সহযোগিতায় ১৯৭১ইং সালে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সুযোগ পেয়েই তারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা করে।

এই ঘোষণার সাথে সাথে সেখানকার অমুসলিম নাগরিকেরা একপ্রকার দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিনত হয়। আরও বেদনাদায়ক, বাংলাদেশে শত্রু সম্পত্তি আইনের মাধ্যমে হিন্দুদের কাছ থেকে প্রায় ১৬২০ হেক্টর জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

আমরা যে রাজনৈতিক দলটিকে আমাদের বন্ধু বা ধর্ম নিরপেক্ষ হিসেবে জেনে এসেছি- শুনলে অবাক হবেন, হিন্দুদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া জমির বেশির ভাগই দখল করে আছে সেই আওয়ামী লীগ অর্থাৎ শেখ হাসিনার দল।

শুধু তাই নয়, হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করণে উৎসাহিত করতে নওমুসলিম ভাতা চালু করেছে শেখ হাসিনার সরকার। এই আওয়ামী লীগ সরকারের আরও অনেক কীর্তির মধ্যে আছে- বিখ্যাত হিন্দু লেখকদের লেখা পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেয়া, অমুসলিম ছাত্র ছাত্রীদের ইসলামের ইতিহাস পড়তে বাধ্য করা।

অমুসলিম নাগরিকদের বিপদে ফেলতে আরও আছে ধর্ম অবমাননার আইন ৫৪ ধারা যা এযাবৎ শুধুমাত্র অমুসলিমদের উপর প্রয়োগ হয়েছে। প্রায় প্রতি বছরই কোন না কোন সাজানো ধর্ম অবমাননার দায়ে এক বা একাধিক হিন্দু পাড়া হামলা ও লুটপাটের শিকার হচ্ছে।

অথচ প্রকৃত অপরাধী শাস্তি না পেয়ে পুরস্কৃত হচ্ছে, এতে অপরাধীর অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং উৎসাহিত হয়ে একের পর এক নির্যাতন করেই চলেছে অমুসলিমদের উপর। তাছাড়া নির্বাচন এলেই হিন্দুদের মধ্যে একরকম আতঙ্ক তৈরি হয়, কারণ নির্বাচনে যেই জিতুক নির্বাচন পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।

তাই আমি World Hindu struggle committee এর পক্ষ থেকে ভারত সরকারের নিকট আবেদন জানাচ্ছি- বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে তার প্রতি দৃষ্টি প্রদান করুন, কারণ আমি মনে করি এরা অখণ্ড ভারতের মানুষ ছিল ।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

আর্কাইভ

SatSunMonTueWedThuFri
15161718192021
22232425262728
293031    
       
  12345
2728     
       
    123
18192021222324
       
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
©  2019 copy right. All rights reserved © 71sangbad24.com ltd.
Design & Developed BY Hostitbd.Com