শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদঃ
করোনা সংক্রমণ রোধে আতঙ্ক নয়, গণ সচেতনতাই উত্তম...নিরাপদ দুরত্বে পথ চলুন, খাবারের আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন.. নাক, মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন...সবচেয়ে ভালো বাড়ীতেই থাকুন... ধন্যবাদ সবাইকে।
সংবাদ শিরোনামঃ
আড়াইহাজারে দলিল লেখক নুরুল আমীনের ও জাকারিয়া জাকির কাছে জিম্মি সাব-রেজিস্ট্রার অফিস নীলফামারীতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে পোষাক শ্রমিকের মৃত্যু গাজীপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার মজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন উদ্বোধন ভাষাসৈনিক রেজাউল করিমের মৃত্যুতে নতুনধারার শোক গাইবান্ধায় বাদাম বিক্রি করে সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছেন আশিক টঙ্গীতে করোনা টিকা গ্রহণ করে স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু ডিমলায় করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও মাস্ক বিতরণ নোয়াখালী হাতিয়া থানার ওসির বিদায় ও নবাগত ওসিকে বরণ অনুষ্ঠান শীতের পিঠা বিক্রি করে যারা সংসারের চাকা ঘোরাচ্ছেন বিশ্বনাথে গাভীর খামার করে স্বাবলম্বী ফখরুল

বাঙ্গালি জাতির রাষ্ট্র বাংলাদেশ- ডিসেম্বর যার জন্ম মাস

সাইফুল বিন হানিফঃ
আজ থেকে শুরু হলো মহান সশস্র সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ত্রিশ লাখ শহীদ আর দু’লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সাক্ষর এবারের বিজয়ের মাস বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে পালিত হবে।

হাজার বছরের লড়াই সংগ্রামের গৌরবগাঁথা ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র বাঙ্গালি জাতি। ১৯৬২ইং সালে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ গোপন সংগঠন নিউক্লিয়াস প্রতিষ্ঠিত হয়। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ইং সালের ১৬ই ডিসেম্বর জন্ম বাঙ্গালি জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ঘটনা হলো ১৯৭১ইং সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙ্গালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক, রাজনৈতিক,ও অর্থনৈতিক স্বপ্ন সাধ পূরণ হয় এ মাসে। যদিও বঙ্গজননী বৃটিশ উপনিবেশিক শাসন কাঠামোয় বন্দি। এখন সময় এসেছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার।

বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় গৌরবদীপ্ত চূড়ান্ত বিজয় এ মাসের ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত হয়। স্বাধীন জাতি হিসেবে সমগ্র বিশ্বে আত্মপরিচয় লাভ করে বাঙালিরা। অর্জন করে নিজস্ব ভূ-খণ্ড। আর সবুজের বুকে লাল সূর্য খচিত নিজস্ব জাতীয় পতাকা। ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল, এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয়ের মাধ্যমে ঘোষিত স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এ দিনে।

বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নপূরণ হবার পাশাপাশি বহু তরতাজা প্রাণ বিসর্জন আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই অর্জন হওয়ায় বেদনাবিঁধূর এক শোকগাঁথার মাসও এই ডিসেম্বর। এ মাসেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর আল শামসদের সহযোগিতায় দেশের মেধা, শ্রেষ্ঠ সন্তান-বুদ্ধিজীবী হত্যার নৃশংস হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। সমগ্র জাতিকে মেধাহীন করে দেয়ার এধরনের ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞের দ্বিতীয় কোনো নজীর বিশ্বে নেই।

১৯৭১ইং সালের ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ আর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর জল, স্থল আর আকাশপথে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের খবর চারদিক থেকে ভেসে আসতে থাকে।

এ বছরের ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। যেখান থেকে ৭ই মার্চ স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,’ বলে স্বাধীনতার ডাক দেন, সেখানেই পরাজয়ের দলিলে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজী। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। আর জাতি অর্জন করে হাজার বছরের স্বপ্নের স্বাধীনতা।

‘৭১ এর ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী জল্লাদ বাহিনী নিরস্ত্র জনগণের উপর অতর্কিতে সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর এক অসম যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়। বঙ্গবন্ধু একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাক বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হবার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৫শে মার্চ রাতেই রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সশস্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র জনযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে ১৬ই ডিসেম্বর জাতির চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

মহান এ বিজয়ের মাস উদযাপনে জাতীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাহজাহান খান এমপির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা ঐক্যজোট, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম পরিষদসহ বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন আগামীকাল সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে শিখা চিরন্তন চত্ত্বরে সমাবেশ, শ্রদ্ধা নিবেদন ও শপথ গ্রহণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এদিনই সকাল ১০ টায় সেগুনবাগিচাস্থ স্বাধীনতা ভবনে সংগঠনের কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ বরাবরের মতই আগামীকাল ১লা ডিসেম্বর দেশব্যাপী মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালন করবে। এ উপলক্ষ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি আগামীকাল সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। এছাড়াও জাসদ ঢাকা মহানগর পশ্চিম কমিটি সকাল ৮ টায় মিরপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবরস্থানের বাইরের চত্বরে আলোচনা সভার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

উল্লেখ্য যে, এ বছরের ১৮ই অক্টোবর পহেলা ডিসেম্বর সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালন করার প্রস্তাব দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সেনাদের বৃটিশরা যেভাবে আজও স্মরণ করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সেভাবে চিরস্মরণীয় করে রাখতে পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

আর্কাইভ

SatSunMonTueWedThuFri
22232425262728
293031    
       
  12345
2728     
       
    123
18192021222324
       
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
©  2019 copy right. All rights reserved © 71sangbad24.com ltd.
Design & Developed BY Hostitbd.Com