সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদঃ
করোনা সংক্রমণ রোধে আতঙ্ক নয়, গণ সচেতনতাই উত্তম...নিরাপদ দুরত্বে পথ চলুন, খাবারের আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন.. নাক, মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন...সবচেয়ে ভালো বাড়ীতেই থাকুন... ধন্যবাদ সবাইকে।
সংবাদ শিরোনামঃ
রাজশাহীতে মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট‘র নতুন ভবনের উদ্বোধন রাজশাহী মহানগরীতে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৬০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ১ মাদক ব্যবসায়ী আটক ধর্ষণের কথা ফাঁস হওয়ার ভয়ে বিধবা নারীকে হত্যায় অভিযুক্ত ২ আসামিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার নোয়াখালীর দ্বীপ হাতিয়ায় মা- মেয়ের লাশ উদ্ধার ধুনটে গোসাইবাড়ী ইউপি‘র নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণ রংপুরে মনবতার সেবা করে চলেছে হিজড়া সংগঠনের সভাপতি রানা রংপুরে অপসাংবাদিকতা ও মানবাধিকারের আড়ালে মাদক ব্যবসা- এলাকাবাসীর সংবাদ সন্মেলন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে হোটেল ব্যবসায়ী পিতার হত্যাকারী নিজ ছেলে সোহান লালমনিরহাটে যৌতুক ও বাল্যবিবাহ বিরোধী আলোচনা নড়াইলের লোহাগড়া ইউনিয়নে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় মহিলাসহ গুরুতর আহত ৩

র‍্যাবের ছায়া তদন্তে যেভাবে ধরা পড়লেন বাউল ছদ্মবেশী বগুড়ার দুর্ধর্ষ সিরিয়াল কিলার হেলাল

রুহুল আমীন খন্দকার- বিশেষ প্রতিনিধিঃ
তিনটি হত্যাকাণ্ড, যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বগুড়ার হেলাল হোসেন(৪৫)। ‘খুনি হেলাল, ‘দুর্ধর্ষ হেলাল’ নামে এলাকায় পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। এরপর বাউলের বেশ ধারণ করেন। তবে বাউলের বেশ ধারণের পর তিনি ‘সেলিম ফকির’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। পথে পথে ঘোরার পর থিতু হন রেলওয়ে স্টেশনে। গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন হেলাল ওরফে সেলিম ফকির। গানের গলা ভালো হওয়ায় নজরে পড়েন এক ইউটিউবারের। তার হাত ধরেই শুরু করেন বাউল গানের মডেলিং।

তবে হেলালের কপাল পুড়ে ‘ভাঙা তরি ছেঁড়া পাল’ গানে বাউল মডেল হিসেবে অভিনয়ের পর। প্রায় পাঁচ বছর আগে মডেলিং করা তার এই গানটি বছরখানেক আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তার গান ভাইরাল হওয়াই কাল হয় হেলালের। পরিচিতজনরা তাকে চিনে ফেলেন। তার পরিচয় নিশ্চিত হন স্থানীয়রা। এরপর হেলালের বেশভূষা বদলের তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ করেন র‍্যাবে।

স্থানীয়দের তথ্য ধরে ছয় মাস চেষ্টার পর র‍্যাবের গোয়েন্দারা তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন। গতকাল বুধবার (১২ জানুয়ারি) রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে হেলাল হোসেন ওরফে খুনি হেলাল ওরফে সেলিম ফকিরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন র‍্যাব।

র‍্যাব সুত্রে জানা যায়- হেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলায় তার সাজাও দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আরও দুটি ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। োাআজ বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন- অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন হেলাল হোসেন, তার বাড়ি বগুড়ায়। এক সময় মুদিখানার দোকান চালাতেন তিনি। পরে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েন। গ্রেফতার এড়াতে ছদ্মবেশে বিভিন্ন মাজার ও রেলওয়ে স্টেশনে থাকা শুরু করেন। কেউ যাতে তার চেহারা চিনতে না পারেন, সেজন্য লম্বা দাঁড়ি ও চুল রাখেন। একটি বাউল গানের শুটিংয়ের সময় তাকে মডেল হিসেবে অভিনয় করানো হয়। সেই গানের ভিডিও দেখে স্থানীয়রা শনাক্ত করেন বাউল ছদ্মবেশী সেলিম ফকির আসলে একজন খুনি। তিনিই খুনি হেলাল।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান- ছয় মাস আগে এক ব্যক্তি ইউটিউবে প্রচারিত একটি গানের বাউল মডেল সম্পর্কে র‍্যাবের কাছে তথ্য দেন। তখন জানানো হয়, এই বাউল মডেল সম্ভবত বগুড়ার বিদ্যুৎ হত্যা মামলার আসামি। অভিযোগ পেয়ে র‍্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয় র‍্যাব।

ছদ্মবেশী হেলাল ফকিরের যত অপরাধ ২০০১ইং সালে বগুড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাহমুদুল হাসান বিদ্যুৎকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে নিহতের পরিবারের একজন সদস্য বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেন। ২০০৬ইং সালে রবিউল নামে এক ব্যক্তিকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে। সেই মামলায়ও হেলাল চার্জশিটভুক্ত আসামি।

এছাড়া ১৯৯৭ সালে বগুড়ার বিষ্ণু হত্যা মামলারও এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। এছাড়া ২০১০ইং সালে বগুড়া সদর থানায় একটি চুরির মামলায় ২০১৫ সালে গ্রেফতার হন হেলাল ওরফে বাউল হেলাল। তাছাড়া নারী নির্যাতন আইনেও তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। খুনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে নিজ এলাকায় ‘দুর্ধর্ষ হেলাল, ‘খুনি হেলাল’ নামে পরিচিতি পান তিনি।

যেভাবে ফেরারি জীবনে হেলাল অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে পরে মুদিখানার দোকান চালাতেন হেলাল। ২০১০ইং সালে চুরির মামলায় গ্রেফতার হন। এরপর ২০১৫ইং সালে জামিন পান। ওইদিনই বিদ্যুৎ হত্যা মামলার রায় হয়। রায়ে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন। আদালতে হাজির না হয়ে তিনি সুকৌশলে এলাকা ছাড়েন। এরপর শুরু হেলালের ফেরারি জীবন।

র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল জানিয়েছেন- প্রথমে তিনি বগুড়া থেকে ট্রেনে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আসেন। পরে কমলাপুর থেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম যান। সেখানে আমানত শাহের মাজারে ছদ্মবেশ ধারণ করে বেশ কিছুদিন অবস্থান করেন। পরে ট্রেনে সিলেটের হজরত শাহজালাল মাজারে চলে যান। সেখানে ছদ্মবেশ ধারণ করে আরও কিছুদিন অবস্থান করেন। এভাবে তিনি বিভিন্ন রেলস্টেশন ও মাজারে ছদ্মবেশে অবস্থান করেন।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশনে গিয়ে নাম- ঠিকানা ও পরিচয় গোপন করেন হেলাল। নিজেকে সেলিম ফকির নামে পরিচয় দেন। সেখান থেকে তিনি সেলিম ফকির নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ২০১৭ইং সালের দিকে হেলাল নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনে কিশোর পলাশ ওরফে গামছা পলাশের একটি গানের শুটিং চলাকালে রেললাইনের পাশে বাউল গান গাচ্ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি তাকে গানের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। এরপর বহুল জনপ্রিয় ‘ভাঙা তরি ছেঁড়া পাল’ গানে মডেলিং হন হেলাল হোসেন ওরফে সেলিম ফকির।

স্টেশনে কেটেছে চার বছর- যাবজ্জীবন দণ্ডের পর পলাতক হেলাল প্রায় সাত বছর ফেরারি জীবনযাপন করেছেন। সর্বশেষ চার বছর তিনি কাটিয়ছেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে। সেখানে স্টেশনের পাশেই এক নারীকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। স্টেশনে বাউল গান শুনিয়ে মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অর্থেই চলতো তার সংসার জীবন।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

আর্কাইভ

SatSunMonTueWedThuFri
15161718192021
22232425262728
293031    
       
  12345
2728     
       
    123
18192021222324
       
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
©  2019 copy right. All rights reserved © 71sangbad24.com ltd.
Design & Developed BY Hostitbd.Com