ডেস্ক সংবাদ.
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর কুর্শা ইউনিয়নের জয়বাংলা এলাকার বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলামের ছেলে মো. সবুজ ইসলাম (১৫) গত ২৫ মে থেকে নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় গত ১১ জুন ফেনী সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৮১৮) করেছে তার পরিবার। নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে নিকট আত্মীয়দের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হলেও, এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে কাজের উদ্দেশ্যে সবুজ তার জ্যাঠাতো ভাই মো. রাজ্জাকুল ইসলাম (২৫) ও ফুফাতো ভাই মো. রায়হান আলী (১৮)-এর সঙ্গে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানাধীন অশ্বদিয়া ইউনিয়নের প্রোভিটা হ্যাচারি লিমিটেডে শ্রমিক হিসেবে যোগ দেয়। ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ২৫ মে বাড়ির উদ্দেশ্যে কর্মস্থল থেকে রওনা হওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন সবুজ ফেনী জেলার মহিপাল এলাকায় হানিফ পরিবহনের কাউন্টারে অবস্থান করছিল। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি পাওনা টাকার বিষয় নিয়ে তাকে আটক করে মারধর করেন এবং তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন। ভিডিওটি দেখে পরিবারের দাবি, সেখানে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে নোয়াখালীর একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নয়ন ও গৌতম নামে দুজন শ্রমিক ছিলেন। তাদের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে গৌতম মুঠোফোনে বলেন, “আমরা শুধু মোবাইল ফোনটি নিয়ে এসেছি। এ সময় দু-একটি চড়-থাপ্পড় দেওয়া হয়েছিল। পরে আমরা কর্মস্থলে ফিরে যাই। এরপর কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।”
হানিফ পরিবহনের মহিপাল কাউন্টার সূত্র জানায়, সবুজ নামে এক ব্যক্তি ওই দিন একটি টিকিট কিনেছিলেন। পরে তিনি টিকিটটি ফেরত দিয়ে টাকা নিয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর তার বিষয়ে কাউন্টারের কাছে আর কোনো তথ্য নেই।
নিখোঁজ সবুজের বাবা মো. সাইদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলে কর্মস্থলে যাওয়ার পর থেকে বাড়িতে আসেনি। নিখোঁজের ঘটনায় আমার ভাইয়ের ছেলে রাজ্জাকুল ইসলাম ও বোনের ছেলে রায়হান আলী জড়িত থাকতে পারে। আমি প্রশাসনের কাছে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাই।”
তিনি আরও জানান, “সবুজ নিখোঁজ হওয়ার পর নোয়াখালী ও ফেনীতে খোঁজ নিতে গিয়ে তাঁর ভাতিজা ও ভাগিনার কাছ থেকে কোন সহযোগিতা পাননি। তাদের ফোনও বন্ধ ছিল বলে দাবি করেন। এছাড়া অজ্ঞাত নম্বর থেকে সবুজকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে রাজ্জাকুলের পরিবারের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলেন।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজ্জাকুল ইসলাম ও রায়হান আলী। তারা বলেন, ঘটনার সময় তারা হ্যাচারিতে কর্মরত ছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি নিবন্ধন (রেজিস্টার) যাচাই করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তাদের দাবি, সবুজ একটি মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যাওয়ার পর নয়ন ও গৌতম পাওনা টাকার বিষয়টি মীমাংসার জন্য মহিপালে গিয়ে মোবাইলটি ফেরত আনেন। রাজ্জাকুলের ভাষ্য, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনটি তার নিজের। তারা নিখোঁজ সবুজের খোঁজে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন।
ফেনী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম জানান, সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা এবং প্রোভিটা হ্যাচারির শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পাওনা টাকার বিষয়কে কেন্দ্র করে নয়ন ও গৌতম মহিপালে গিয়ে মোবাইল ফোনটি নিয়ে আসেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, পাওনা টাকার চাপের কারণে সবুজ আত্মগোপন করে থাকতে পারে। তবে তাকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আশপাশের থানাগুলোতেও তথ্য পাঠানো হয়েছে এবং সন্ধান পাওয়া গেলে পরিবারের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা হবে বলে জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
“উপদেষ্টা
ও সম্পাদক
মন্ডলী”
প্রধান উপদেষ্টা- মোঃ মকবুল হোসেন।
আইন উপদেষ্টা- মোঃ জুয়েল ইসলাম।
প্রকাশক ও সম্পাদক- লাতিফুল সাফি ডায়মন্ড।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক- বাপ্পি সরকার।
“বার্তা
সম্পাদকীয় অস্থায়ী
কার্যালয়”
নিরাপদ টেলিকম এন্ড এন্টারটেইনমেন্ট,
কিশোরগঞ্জ রোড, তারাগঞ্জ বাজার- রংপুর মোবাইলঃ +8801735661194.
সংবাদ পাঠানোর ই-মেইলঃ 71sangbad24.com@gmail.com,
পত্রিকাটি বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশনে নিবন্ধিত-(আই ডি নং-364) এবং বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রনালয়ে জাতীয় নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন।