রবিবার, ১৪ Jul ২০২৪, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদঃ
অনলাইন ভিত্তিক গণমাধ্যম “৭১সংবাদ২৪.কম” এ প্রতিনিধি আহ্বান করা হয়েছে। আগ্রহীগণ জিবনবৃত্তান্ত পাঠাতে 71sangbad24.com@gmail.com -এ মেইল করুন
সংবাদ শিরোনামঃ
ফুলবাড়ীতে ধানের বীজ খাওয়াকে কেন্দ্র প্রতিপক্ষের হামলায় পিতা পুত্রসহ আহত ৩ স্ত্রীর আত্মীয় মন্ত্রী! প্রশ্নফাঁস কেলেংকারীতে জামাই গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ২ মাদক ব্যবসায়ি গ্রেপ্তার নড়াইল কালিয়া সার্কেলে নতুন সহকারী পুলিশ সুপারকে ফুলের শুভেচ্ছা ফুলবাড়ীর বাজিতপুর আবাসন প্রকল্পের বাড়িতে রাস্তা না থাকায় যেতে পারছেনা ১৪টি পরিবার নড়াইলে ইয়াবাসহ একজন আটক পীরগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর শিশু’র লাশ উদ্ধার বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ এর পুরষ্কার বিতরণী ডিমলায় এমপি’র ঐচ্ছিক তহবিল থেকে নগদ অর্থ ও চেক বিতরণ পুঠিয়া “সাংবাদিক সমাজ” এর সাথে উপজেলা চেয়ারম্যানের মতবিনিময় পীরগঞ্জে মসজিদের দোহাই সরকারি খাস জমির গাছ কর্তন পীরগঞ্জে উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও বীজ উৎপাদন প্রশিক্ষণ রংপুরে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে মা-ছেলেসহ নিহত-৩ নড়াইলের পল্লীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকায় বসত ভিটা রক্ষা ও ক্ষতিপূরণ দাবি র‌্যাব-১১, সিপিসি-২’র পৃথক ২ অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার আটক ২ পুঠিয়ায় মাছবাহী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত মোটরসাইকেল আরোহী রাজশাহীর চারঘাট থানা চত্বরে রাসেল ভাইপার নড়াইলের রামনগরচর এলাকায় শুকর চড়াতে এসে বজ্রপাতে নিহত ৩ নড়াইলে বাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ১৫ যাত্রি আহত

নড়াইলের জিলানীতে স্ত্রীকে ভারতে ঘুরাতে নিয়ে যৌনপল্লীতে বিক্রির অভিযোগ

উজ্জ্বল রায়- নড়াইল জেলা প্রতিনিধিঃ
নড়াইলে জিলানীর বিরুদ্ধে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ভারতের একটি যৌনপল্লীতে ২৫ লাখ টাকায় স্ত্রীকে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ এক বছর নির্যাতনের পর পালিয়ে দেশে এসে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী। তবে মামলার ‘মনগড়া’ চার্জশিটের কারণে সুবিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে। মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় নড়াইলের কালিয়া পেড়লী গ্রামের আব্দুল কাদের জিলানীর সঙ্গে। প্রেমের সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায় ২০২২ সালের জুলাইয়ে। তিন মাস যেতে না যেতে পরিবারিক কলহ ও মনমালিন্য দূর করতে ভারতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন স্বামী জিলানী। ওই বছর ৭ অক্টোবর ননদ ও শাশুড়ির উপস্থিতিতে দৌলতপুর থেকে স্বামীর সঙ্গে বাসে রওনা হন ভারতের উদ্দেশে।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, বিয়ের পর সুখে শান্তিতে জীবন কাটছিল তাদের। মাস খানেকের মধ্যে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এরপর থেকেই অশান্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে ডাক্তারখানায় নিয়ে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করেন স্বামী ও তার বাড়ির লোকজন। তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। কয়েকদিন পর স্বামী জিলানী ফোন করে ক্ষমা চান। সম্পর্ক ভালো হলে এক পর্যায়ে ভারতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। ওই বছর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে দৌলতপুর বাসস্ট্যান্ডে শাশুড়ি, ননদ ও স্থানীয় দুই ব্যক্তির উপস্থিতিতে ভারতের উদ্দেশে রওনা হন স্বামীর সঙ্গে। এ সময় ননদ ও শাশুড়ি কিছু শুকনা খাবারও কিনে দেন।

এরপর প্রথমে বাসে করে যশোর তারপর যশোর থেকে অন্য বাসে করে বেনাপোল পৌঁছান। সেখানে কিছু লোকজনের সহায়তায় একটি জঙ্গল এলাকা দিয়ে বর্ডার পার হয়ে অবৈধ পথে ভারতে নিশান নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ওঠেন। সেখানে ৩-৪ দিন থাকার পর নিশান ও জিলানী তাকে ভারতের মুম্বাই শহরের একটি বাড়িতে নিয়ে যান। চলাচলের সুবিধার্থে ভারতীয় আধার কার্ডও বানিয়ে দেন। এরপর ওই বাড়িতে রেখে বাজার করার কথা বলে নিশান ও জিলানী বের হয়ে আর ফিরে আসেননি।

ওই নারী আরও বলেন, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও তারা ফিরে না এলে আকস্মিকভাবে সেখানে অপরিচিত কয়েকজন এসে তার ঘরে প্রবেশ করে। তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে যে, তার স্বামী ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে বিক্রি করে দিয়েছেন। এরপর তিনি কান্নাকাটি শুরু করলে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। ওখানকার লোকজন তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং জোর করে দেহ ব্যবসায় লিপ্ত হতে বাধ্য করে।

পরবর্তীতে স্বামীকে কল করে তার সঙ্গে এ কাজ করার কারণ জানতে চাইলে তাকে গালাগালি দিয়ে বলে, ‘তোর সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। তুই ওখানে পড়ে থাক এবং ওদের হাতেই ধুকে ধুকে মর।

এভাবে অনেক দিন চলার পর এক পর্যায়ে ওখানে থাকা এক বাঙালির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তার সহযোগিতায় প্রায় এক বছর পর ওখান থেকে পালাতে সক্ষম হন। দেশে ফিরে পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে স্বামীর বাড়ি নড়াইলে গিয়ে বিচার পাননি। এরপর খুলনার মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইবুনাল আদালতে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের নামে মামলা করেন।

মামলার তদন্তের ভার পায় পিবিআই। তবে ওই নারীর অভিযোগ, প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, তার স্বামী তাকে যশোর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি ভারতে গিয়ে বিক্রি করেননি। আর শাশুড়ি ও ননদ দৌলতপুর বাসে তুলে দিলেও তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার ব্যাপারে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে এ বিষয়ে কোনও কথা বলতে রাজি হয়নি পুলিশ।

এদিকে অভিযুক্তের এলাকাবাসীরা বলছেন, ন্যায় বিচার পাননি ভুক্তভোগী। আর সব অভিযোগ অস্বীকার করছেন শাশুড়ি। তার ভাষ্য, ওই মেয়ে নিজের ইচ্ছায় ভারতে গিয়েছেন। এসব বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তার ছেলে ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। গত ডিসেম্বর মাসে ওই মেয়ে বাড়িতে এসে ঝামেলা করেন। তার ছেলে সে সময় তাকে ডিভোর্স দিয়েছেন।

এদিকে খুলনার মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইবুনাল আদালতের বিশেষ পিপি সুমন্ত কুমার বিশ্বাস বলেন, অনেক সময় দেখা যায় দুর্বল চার্জশীটের কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। আর আমাদের কাছে চার্জশীট প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর মামলাটি আসে।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

অনলাইন ভিত্তিক 71sangbad24.com গণমাধ্যমটি

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশনে নিবন্ধিত, (আই ডি নং-364)

বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রনালয়ে জাতীয় নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন।

আগ্রহীগণ সিভি পাঠাতে -মেইল করুনঃ info71sangbad24.com@gmail.com

©2019 copy right. All rights reserved 71sangbad24.com Desing & Developed By Hostitbd.Com