বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
মাহাবুব আলম, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের গাজিরহাট টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ ঘিরে উঠেছে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে জালিয়াতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ। কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী থাকলেও সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত পাঠদান বা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির চিত্র দেখা যায়নি। অথচ ১৭৩ জন শিক্ষার্থী দেখিয়ে সরকারি বিশেষ বরাদ্দ নেওয়া এবং প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের বরাদ্দ অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটিতে অধ্যক্ষসহ আটজন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারীর পদ রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম নেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের দরজা-জানালা বন্ধ। নিয়মিত পাঠদান বা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিরও কোনো দৃশ্য চোখে পড়েনি।
অভিযোগ রয়েছে, কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেখিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখার একটি স্মারকের আওতায় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত একাডেমিক ভবন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কলেজটি সাত লাখ টাকা বিশেষ সরকারি অনুদান পেয়েছে। এর পাশাপাশি একই শিক্ষার্থীসংখ্যা ও নথিপত্রের ভিত্তিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের বরাদ্দও অনুমোদন হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেখানে উপজেলার অনেক সচল ও নিয়মিত টেকনিক্যাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবকাঠামো সংকটে রয়েছে, সেখানে শিক্ষার্থী উপস্থিতিহীন একটি প্রতিষ্ঠানে এত বড় অঙ্কের সরকারি বরাদ্দ কীভাবে অনুমোদন হলো? এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যাচাই-বাছাই ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, শিক্ষার্থীর প্রকৃত সংখ্যা যাচাই না করে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের সুযোগ তৈরি হয়। তাই কলেজটির শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী, সরকারি অনুদান এবং ভবন নির্মাণের বরাদ্দের বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে অনিয়মের প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থী রয়েছে এবং বর্তমানে পরীক্ষা শেষ হওয়ায় তাদের দেখা যাচ্ছে না।
কলেজের অধ্যক্ষ সবিরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “কলেজে আমার ১৭৬ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। কিছুদিন আগে পরীক্ষা হয়েছে। তাই এখন কোনো ছাত্রছাত্রী নেই। এজন্য মাঝে মধ্যে এসে আমি প্রতিষ্ঠান খুলে বসে থাকি।”
অভিযোগের বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক রফিকুল হক বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি আগে অবগত ছিলাম না। আপনাদের মাধ্যমেই প্রথম জানলাম। খবর নিয়ে দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
এখন দেখার বিষয়, সরেজমিনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, ভর্তি-রেজিস্টার, পরীক্ষার নথি, সরকারি বরাদ্দের কাগজপত্র এবং ভবন নির্মাণের অনুমোদন—সবকিছু যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়।