মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৬ অপরাহ্ন
মাহাবুব আলম- ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি.
প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের ভাংবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি সরকারি কোনো বরাদ্দের ছোঁয়া। ১৯৯৫ সালে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। জরাজীর্ণ টিনের ঘর, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ২০৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। তাঁদের পাঠদানে রয়েছেন ১০ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী। তবে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জরুরি ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিস কক্ষসহ মোট ছয়টি কক্ষ প্রয়োজন। নতুন ভবন না থাকায় বর্তমানে জরাজীর্ণ টিনের ঘরেই পাঠদান চালাতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ ভিজে যায়। এতে অনেক সময় পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। ফলে দুর্ভোগের মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
### বিজ্ঞানাগার অচল, নেই পর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধা
বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও বিজ্ঞানাগারের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় সেগুলোও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। নেই শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ও ব্যবহার উপযোগী শৌচাগার। বিশেষ করে ছাত্রীদের এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নেই কোনো সাধারণ বিশ্রামাগারও।
তবে নানা সংকটের মধ্যেও থেমে নেই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে ৪৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২৫ জন কৃতকার্য হয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও এই ফলাফল প্রমাণ করে, উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ ও অবকাঠামো পেলে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা আরও ভালো ফলাফল করতে সক্ষম।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার ব্যবস্থা এবং বিজ্ঞানাগার সচল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহিদুর ইসলাম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করে আসছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা বা অর্থ বরাদ্দ পায়নি। একটি উপযুক্ত ভবনের অভাবের পাশাপাশি ভালো শৌচাগারেরও ব্যবস্থা নেই। অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের শৌচাগার ব্যবহার করতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “সংকট এতটাই তীব্র যে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পাশের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বেঞ্চ ধার করে এনে শিক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থা করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছি। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।”