মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন
৭১সংবাদ২৪.কম, ডেস্ক.
সম্ভাব্য চীনা হামলার মুখে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে আগামী মাসে অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র স্থানান্তর এবং বেসামরিক কারখানাগুলোকে সামরিক উৎপাদনে রূপান্তরের সক্ষমতা যাচাই করবে তাইওয়ান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।
আগামী ৫ থেকে ১৪ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য তাইওয়ানের বার্ষিক হান কুয়াং (Han Kuang) সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এই অনুশীলন পরিচালিত হবে। মহড়ায় এমন একটি পরিস্থিতি কল্পনা করা হবে, যেখানে চীন নিয়মিত সামরিক মহড়ার আড়ালে তাইওয়ানে পূর্ণমাত্রার হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। এমন পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে দ্রুত সর্বোচ্চ যুদ্ধ প্রস্তুতিতে যাবে এবং তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, সেটিই হবে মহড়ার মূল লক্ষ্য।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধাবস্থায় অস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন স্থানে উৎপাদন লাইন ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রয়োজনে বেসামরিক শিল্পকারখানাকে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে যুক্ত করার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সংঘাতের শুরুতেই চীন দেশটির সামরিক কমান্ড সেন্টার, বন্দর, সরবরাহ ব্যবস্থা, লজিস্টিক নেটওয়ার্ক এবং প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। তাই এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এবারের মহড়ার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
যদিও বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে, তাইওয়ান সরকার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের অবস্থান, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল তাইওয়ানের জনগণের।
যৌথ অভিযান বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল লু ওয়েন-ইউয়ান সাংবাদিকদের জানান, মহড়ায় রাজধানী তাইপের আর্মামেন্টস ব্যুরোর ২০২ নম্বর অস্ত্রাগার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অন্যত্র স্থানান্তরের অনুশীলন করা হবে। একই সঙ্গে জরুরি নির্দেশ জারির পর সামরিক সরঞ্জামের পূর্ণাঙ্গ সংযোজন (Whole-system Assembly) সক্ষম বেসামরিক কারখানাগুলোকে দ্রুত উৎপাদনে যুক্ত করার কার্যক্রমও পরীক্ষা করা হবে।
এই মহড়ার মাধ্যমে তাইওয়ান মূলত যাচাই করতে চায়, শত্রুপক্ষের হামলায় প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প কতটা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থায় কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে।