মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ন
৭১সংবাদ২৪.কম- ডেস্ক.
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ, আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়ে রংপুরের তারাগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জুলাই অভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান করেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১ টায় তারাগঞ্জ ওয়াকফ এস্টেট সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠ সংলগ্ন উপজেলা অডিটরিয়ামে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস-২৬ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে তারাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান শিপু বলেন, অতীতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় দেশে একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে যেন কোনোভাবেই দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান না হলে বিরোধী মতের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারত।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার আমীর আলমঙ্গীর হোসেন বলেন, “রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন, গুম ও হত্যার অভিযোগ দেশের রাজনৈতিক সংকটকে গভীর করেছিল। নিজের কারাবন্দি জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভিন্নমতের মানুষের ওপর দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তিনি রংপুরের শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে বলেন, “তাঁর মৃত্যুর ঘটনা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে এবং দেশজুড়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে দেয়।”
তারাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াই, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা সরকার দলীয় ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে দেশের জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন।”
তিনি আরো বলেন, “রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলের নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি আদর্শভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে আপনারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করবেন।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোনাববর হোসেন জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বলেন, “সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন। আসুন আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে একটি উন্নত, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করি।”
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পরে জুলাই অভ্যুত্থান বিষয়ক কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।