মঙ্গলবার, ১৬ Jun ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ন
রবিন চৌধুরী- রংপুর জেলা প্রতিনিধি.
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা উপজেলার ১০ নম্বর বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নে মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানের জায়গা দখল করে জোরপূর্বক মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের একটি মসজিদের পাশে দীর্ঘদিনের পুরোনো কবরস্থানের জমির পাকা রাস্তার সংলগ্ন অংশে মার্কেট নির্মাণের কাজ চলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মসজিদের মুতাওয়াল্লী জোয়ারদার হোসেন লিটন ও তার ছোট ভাই মো. জিসান স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর আপত্তি উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মুসল্লিদের দাবি, তারা কোনোভাবেই কবরস্থানের জায়গায় মার্কেট নির্মাণ চান না। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানানো হলেও মুতাওয়াল্লী তা আমলে নেননি। বরং তিনি জোরপূর্বক নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, মসজিদের জমি ৩৮ বিঘা এবং মসজিদ উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত ফান্ড রয়েছে। তাদের দাবি, কবরস্থানের জায়গায় মার্কেট নির্মাণ করে মসজিদ উন্নয়নের কথা বলা শুধুমাত্র আইওয়াশ। বরং মার্কেট নির্মাণের ফলে কবরস্থানের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ছে এবং ভবিষ্যতে দাফন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া কবরস্থান রক্ষায় নামজারি ও রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও আইন অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মুতাওয়াল্লী জোয়ারদার হোসেন লিটনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মসজিদটি আমাদের বংশধরেরা দিয়েছে আর আমিই এখানকার মুতাওয়াল্লী। তাই এখানে আমি যা বলব সেটাই হবে। তিনি আরও জানান, মার্কেট নির্মাণের বিষয়ে কারও মতামত নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না এবং তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।
এ বিষয়ে মো. জিসনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মুসল্লিরা চাইলে আমার মত তারাও ঘর নির্মাণ করুক। আমার কারো মতামত নেয়ার প্রয়োজন নেই। আমি ব্যস্ত আছি আপনাদের যা ইচ্ছা তাই করেন।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মো. আশিক জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে এলাকাবাসী ও মুসল্লিরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করে কবরস্থানের জায়গা রক্ষা এবং চলমান নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।