শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন
রবিন চৌধুরী রাসেল- রংপুর জেলা প্রতিনিধি.
রংপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে যুবকদের উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, কথা দিচ্ছি আমরা সুযোগ পেলে তোমাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ব। আমরা সমাজের চাবি ও নেতৃত্ব তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে পিছন থেকে তোমাদেরকে শক্তি ও সমর্থন দিয়ে যাব।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ৯টার দিকে তিনি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবরস্থানে উপস্থিত হয়ে কবর জিয়ারত করেন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন।
জিয়ারত শেষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন আমিরে জামায়াত। তিনি আবু সাঈদের ত্যাগ ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনকে বুকে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
আবু সাঈদের বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আবু সাঈদসহ সব শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা ইনশাআল্লাহ লড়াই চালিয়ে যাব। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমরা ন্যায়, ইনসাফ ও জবাবদিহিতার বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।
তিনি বলেন, তোমাদের ভোট নিয়ে যেন কেউ হেলাফেলা করতে না পারে এজন্য তোমাদের জুলাই যুদ্ধের মত আরেকবার লড়তে হবে এবং জনতার বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ আবু সাঈদ ও তার সঙ্গীরা জীবন দিয়ে আমাদের রেডি করে গিয়েছেন। আমাদের ঘাড়ে তারা দায়িত্ব ও আমানত রেখে গিয়েছেন। আমরা তাদের মতো জীবন দিয়ে হলেও তাদের আমানত রক্ষা করার লড়াই করে যাব। তাদের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা ছিল যে একটি দুর্নীতি মুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, ফ্যাসিবাদ মুক্ত, দুঃশাসন আধিপত্যবাদ মুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার। যে বাংলাদেশের সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করবে এবং যার যার দক্ষতা অনুযায়ী জাতি গঠন উন্নয়নের অবদান রাখবে।
শহীদ আবু সাইদ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করে তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডের বিচার চলছে। আমরা চাই অতি দ্রুত বিচারের কাজ শেষ করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। তার পরিবারকে আমরা মাথার তাজ করে রাখব। সেটা সেটা মুখের কথায় নয় বরং বাস্তবে দেখবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে প্রত্যেকটি নাগরিক নিরাপদে বসবাস করবে। আমরা চরম বিপদের দিনে দেশে ছিলাম এখনো আছি এবং আগামী দিনে পরিস্থিতি যাই হোক আপনাদের সঙ্গে দেশেই থাকবো। আমরা দেশ ছেড়ে অন্য কোনো জায়গায় ঠিকানা খুঁজবো না।
জামায়াত আমির বলেন, আমাদের নিজস্ব কোনো এজেন্ডা নাই। আপনারা দেখেছেন পাঁচ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত আমরা কোনো চাঁদাবাজি করিনি। আমরা কোনো দুর্নীতি করি নাই, মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করিনি, আমরা কারো উপর ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশোধ নেইনি বরং আমরা একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠন করার জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে চেয়েছি। আমরা আমাদের জাতিকে বিভক্ত করতে দেবো না এই বিভক্তির অবসান ঘটনার জন্যই আমরা ১০টি দল একত্রিত হয়েছি। আমরা বাংলাদেশের ৩০০ আসনের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ১০ দল প্রার্থী দিয়েছি।
যুবকদের উদ্দেশ্যে ড. শফিকুর রহমান বলেন, যুবকদের কথা দিচ্ছি আমরা সুযোগ পেলে তোমাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ব। আমরা সমাজের চাবি ও নেতৃত্ব তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে পিছন থেকে তোমাদেরকে শক্তি ও সমর্থন দিয়ে যাব। তোমাদের ভোট নিয়ে যেন কেউ হেলাফেলা করতে না পারে এজন্য তোমাদের জুলাই যুদ্ধের মত আরেকবার লড়তে হবে এবং জনতার বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলে মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন, রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহসহ জামায়াত-শিবিরের নেতারা।