শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্টাফদের কর্মবিরতি। ছবি- প্রতিনিধি। মিজু সরকার- নিজেস্ব প্রতিনিধি.
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেবকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার (১০ মার্চ) দুপুরে টেন্ডার না পাওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সা. সম্পাদক হাসানুর রহমানসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার (১১ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্সরা কর্মবিরতি পালন করছেন।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহে টেন্ডার আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টি কর্তৃপক্ষ। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক এতে প্রায় ১০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। নিয়মতান্ত্রিক ভাবে ‘বাঁধন ট্রেডার্স’ নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টেন্ডার যোগ্যতায় কাজ পায়। অপরদিকে নিয়মতান্ত্রিক না হওয়ায় অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলোর ন্যায় যুবদল নেতা ও তাদের পক্ষের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেধা কনস্ট্রাকশন’ উক্ত টেন্ডারে (খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ) অযোগ্যতার দায়ে বাদ পরেন। এতেই তারা ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ‘মেধা কনস্ট্রাকশন’ এর স্বত্বাধিকারী আলমাস ও হাসানুর রহমানসহ কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষে গিয়ে কৈফিয়ত চান। এক পর্যায়ে যুবদল নেতা ও তার পক্ষের লোকজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে টেবিলে আঘাত করেন। একই সময়ে তারা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে ওই কর্মকর্তার দাবি করেন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষের সিসি ক্যামেরায় ধারনকৃত। ছবি- সংগৃহীত।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসক ও নার্সদের কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা অনেকেই চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। মতিউর রহমান নামের একজন চিকিৎসা নিতে এসে কর্মবিরতি হওয়ায় অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে নিম্ন আয়ের লোকজন। যার সিংহভাগ চিকিৎসা প্রত্যাশি খেটে খাওয়া অসহায় ও দুস্থ শ্রেণির মানুষ।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, গতকাল (১০ মার্চ) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষে স্টাফদের আলোচনা চলছিল। হঠাৎ হাসানুর রহমান (যুবদলের যুগ্ম সা. সম্পাদক) সহ কয়েকজন এসে টেন্ডার না পাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন এবং টেন্ডার স্থগিত রাখার দাবি করেন। অন্যথায় তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে টেন্ডার দেয়ার চাপ দেন। এর প্রতিবাদে আজ আমরা সবাই কর্মবিরতি পালন করছি। আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কাজে ফিরব না, যতক্ষণ পর্যন্ত এই ঘটনার সঠিক বিচার না হয়, এমনটাই দাবি তাদের।
অপরদিকের উপজেলা যুবদলের নেতা হাসানুর রহমান তার নামে হওয়া অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করেন এবং ঘটনার সবই ঠিক নয় বলেও দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, আমি কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত নই। হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে কথা বলেছি মাত্র।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব বলেন, টেন্ডারটি সব নিয়ম মেনে করা হয়েছে। কিন্তু একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার না পেয়ে আমার কক্ষে এসে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয়। সেখানে উপস্থিত দুইজনকে আমি চিনি—একজন হাসানুর রহমান এবং আরেকজন লিওন। অন্যদের চিনি না, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, হুমকির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।