শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
আফজাল হোসেন- দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি.
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় দেবীপুর গ্রামে ধানের চারা নষ্ট করার প্রতিবাদ করায় মো. আব্দুর রহিম নামে এক কৃষককে প্রতিপক্ষের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মো. জুয়েল (৩০), মো. সেলিম (৩৫), মো. রফিক (৪০), মো. বাবু (৫৫) উভয়ের পিতা- মো. মোজাফ্ফর আলী, মো. আলিম (৪৫), পিতা- মৃত. আবুল হোসেন, মো. আরিফুল (৩৬) পিতা- মমিন ও মো. রাজু (৩০), পিতা- হবিবর রহমান, সর্বসাং- দেবীপুর দওলাপাড়া, বিরামপুর, দিনাজপুর।
উক্ত ব্যক্তিদ্বয় ২০/০২/২০২৬ বিকেল ৪টায় আব্দুর রহিম এর ছোট ভাই সাহাবুল ইসলাম (৩৫) তাদের বসত বাড়ি থেকে আধা কিমি দুরে ধারের চারা দেখতে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন মো. ইফতেখার (১৫) পাওয়ার টিলার দিয়ে তার জমি চাষ করছে। এক পর্যায়ে জমি চাষ করতে করতে পাওয়াপর টিলার আব্দুর রহিম এর বীজতলায়ও চাষ করে ফেলে।
এতে বীজতলা বীজ সহ নষ্ট হয়ে যায়। এই ঘটনার আব্দুর রহিম এর সাহাবুল প্রতিবাদ করলে মো. রফিকুল এর পুত্র মো. লাবিব তার ভাইকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এর প্রতিবাদ করলে প্রতিপক্ষ মো. জুয়েল গং ঘটনা স্থলে এসে সাহাবুল ইসলাম মারপিট করতে থাকে। এতে সাহাবুল ইসলাম মারাত্বক ভাবে আহত হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি মিমাংশা হওয়ার কথা থাকলেও সন্ধ্যা ৬ টায় উল্লেখ্য ব্যক্তিরা বাঁশের লাঠি, গাছের ডাল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মো. সাহাবুল ইসলামকে আবারও মারপিট করে গুরুত্বর জখম করে। মো. সাহাবুল ইসলামকে রক্ষার জন্য মোস্তফা এগিয়ে আসলে তাকেও মারপিট করে গুরুত্বর আহত করেন এবং তার স্ত্রী মো. রুনা তাকে উদ্ধারের জন্য গেলে তাকেও মারপিট করে এবং তাকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিক স্থানীয় লোকজন তাদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করাতে গেলে সেখানে প্রতিপক্ষ জুয়েল গংরা বাধা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে নিরুপাই হয়ে ঐ দিনে তাদের ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। এই সুয়োগ নিয়ে মো. জুয়েল ও সেলিম গংরা মো. মাহাবুব এর বাড়ী ভাংচুর করে এবং বাড়ীতে থাকা ধান বিক্রয়ের ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ঐ দিনে পূর্ব জঘ্যন্নাথপুর কলাবাগান নামক স্থানে মাহাবুব আলম এর ব্যবহৃত মটরসাইকেল ও পকেটে থাকা ১৭৩৫০ টাকা ছিন্তাই করে নেয়। এই ঘটনায় মো. আব্দুর রহিম বাদি হয়ে বিরামপুর থানায় ০৭ জনকে আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বিরামপুর থানার এসআই মো. মাজেদুর রহমান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।