শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
রসিকের নবনিযুক্ত প্রশাসক। ছবি- প্রতিনিধি। রবিন চৌধুরী রাসেল- রংপুর জেলা প্রতিনিধি.
রংপুর সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক এডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন বলেছেন, দলীয় পরিচয় বিবেচ্য নয়, দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতায় নাগরিকদের জন্য প্রশাসক নয় সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। যেখানে সমন্বিত উদ্যোগে একটি পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও গ্রিন সিটি করাই হবে মূল লক্ষ্য। সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে নগরভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এ কথা বলেন তিনি।
রসিক প্রশাসক বলেন, প্রশাসক হিসেবে আমার প্রথম কাজ হবে বৈষম্য দূর করা। আমার সঙ্গে যারা থাকবেন তারা যেমন নিরাপদ থাকবেন, তেমনি যারা আমার সঙ্গে থাকবেন না তারাও নিরাপদ থাকবেন। কারো প্রতি কোনো প্রকার বৈষম্য দেখানো হবে না। দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে নাগরিকদের যে প্রাপ্য সুবিধা আমরা দিতে চাই। নাগরিকরা যাতে সহজে তার সেবা পান সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
বাজেট বৈষম্য নিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজেট বৈষম্যের কবলে রংপুর। দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশন থেকে এই বাজেট বৈষম্যের কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে। আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাজেট বৈষম্য কমিয়ে আনতে সবধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী রংপুরের বাজেট বৈষম্যের বিষয়ে অবহিত। তিনি আমাদের সঙ্গে আছেন। প্রধানমন্ত্রী রংপুরের উন্নয়নে খুবই আন্তরিক। আগামী দিনে রংপুরের উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে পরিকল্পিত উন্নয়ন করতে চাই।
নগরের ‘ফুসফুস’ খ্যাত শ্যামাসুন্দরী খাল নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ পরিকল্পনার অভাবে এটি অপরিচ্ছন্ন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্রথমে স্বল্পমেয়াদী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। এরপর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় খালকে নগরবাসীর জন্য একটি উপহারে রূপান্তর করা হবে। সময় লাগবে, কিন্তু পরিকল্পনা করে এগিয়ে যাব। সকাল ৯টায় নগরভবনে পৌঁছানোর পর প্রশাসক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং নগরভবনের প্রতিটি সেকশন ঘুরে দেখেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে রংপুরসহ দেশের পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। রংপুরে তিনি ছাড়াও বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন প্রশাসকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪’-এর আওতায় মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং নির্বাচিত সংস্থা গঠন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের পরদিনই তাঁরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি নগর উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে জোর দিয়েছেন। সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক মহল তার এই ‘সেবক’ দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানিয়েছেন। রংপুরবাসীর প্রত্যাশা-দুর্নীতিমুক্ত, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়তে তার এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেবে।