শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন
দুস্থসেবায় লাক্স সুন্দরী ইউএনও। ছবি- প্রতিনিধি। মিজু সরকার- নিজস্ব প্রতিনিধি.
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন মানবিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সক্রিয় অবস্থানে তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া। ইতোমধ্যে তিনি বাল্যবিবাহ রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা দিয়ে বেশ কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, উপজেলায় বাল্যবিবাহ, বালু পাচার, অনলাইন জুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। আজকের শিশু শিক্ষার্থী তথা প্রজন্মই আগামীর বাংলাদেশ। তাদের জীবন নষ্ট হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড আমরা সমর্থন করি না, প্রশ্রয়ও কেউ পাবে না বলে তিনি জানান।
উপজেলা জুড়ে আলোচিত এই কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উপজেলাধীন ইউনিয়নগুলো পরিদর্শন ও বিভিন্ন সমস্যা সংকট চিহ্নিত করে নিয়মতান্ত্রিক সমাধানে তৎপর। দপ্তর ভেদে “দরিদ্র ও অসহায়” মানুষের প্রশাসনিক সেবা সহজীকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং নাগরিক সেবা জনবান্ধব করতে গ্রহণ করেছেন নানা উদ্যোগ।
স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাহী এই কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে উপজেলা জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। রনচন্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দা জিয়ারুল ইসলাম জানান, একটি বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে গভীর রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘদিন বিধবা ভাতা না পাওয়া আনোয়ারা বেগমকে ভাতা সহায়তার আওতায় আনেন। এছাড়া বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং মাদকবিরোধী অভিযান, অনলাইন জুয়া বন্ধে থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনায় তিনি সক্রিয়।। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও তিনি নির্বাহী ভূমিকায় প্রশংসিত। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকতে চাই। সমাজের অন্যায়-অনিয়ম বন্ধ করে কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য যে, তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া ৩৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে ২০১৯ সালের ২০ মার্চ প্রকাশিত সরকারি প্রজ্ঞাপনে তাঁর নিয়োগের সুপারিশ প্রাপ্ত হয়ে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। তিনি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (সিনিয়র সহকারী সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও ২০১০ সালের চ্যানেল আই লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় সেরা দশে স্থান পেয়ে তিনি দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন।