শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
হারুন-অর-রশিদ- বিশেষ প্রতিনিধি.
মোটরসাইকেলে ‘প্রেস’ লেখা স্টিকার, গলায় ক্যামেরা, পরিচয় পত্রে সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম লাবলু। রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার কান্দি কাবিলাপাড়া গ্রামে তার বাড়ী। গণমাধ্যম নীতিতে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত চরিত্রে তিনি এখন বেশ আলোচিত এবং সমালোচিত। সাংবাদিক পরিচয়ে থানায় সহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে তার বিচরণ। একই সাথে মাদক ও জুয়ার আসর সহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কাছ থেকে নেন আর্থিক সুবিধা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ২০২৬ইং অননুমোদিত অনলাইন পোর্টালের ব্যানারে প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। যদিও পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে সমাজে তার নেই কোন ভূমিকা। অনিবন্ধিত ‘বাংলার সকাল’ নামে অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক ও প্রকাশক পরিচয়ের আড়ালে গড়ে ওঠা এক ধান্দাবাজ।
জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম লাবলু পীরগাছা উপজেলার কান্দির বাজার নামক এলাকায় দীর্ঘদিনের ক্ষুদ্র পান ব্যবসায়ী। তবে বর্তমান ওই দোকানে তার মাকে বেশির ভাগ সময় পরিচালনা করতে দেখা যায়। আর বাবলু সাংবাদিক পরিচয়ে জুয়া ও মাদক সহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের কাছে করেন আর্থিক ধান্দা। কেউ টাকা দিতে না চাইলে, দেখায় সংবাদ প্রকাশের ভয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গা থেকে মাসোহারা ভিত্তিতে টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার নামে। স্থানীয়দের বলছেন, গত কয়েক বছরে একাধিক অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকায় নিজেকে সক্রিয় করে তোলেন।
এছাড়াও ‘বাংলার সকাল’ নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে নিজেকে সম্পাদক, প্রকাশক এবং প্রতিবেদক হিসেবে দাবি করে আসছেন। তথ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে, দাপ্তরিক ভাবে ওই পোর্টালের কোনো নিবন্ধন বা অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবুও ওই পোর্টালের নাম ব্যবহার করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পদে দেওয়া হয় সাংবাদিক পরিচয়পত্র। এতে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাংবাদিক পরিচয়ের পাশাপাশি রফিকুল ইসলাম লাবলু বিভিন্ন সময় ভুয়া পুলিশ সেজে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে। ইতিপূর্বে কান্দি ইউনিয়নের দোয়ানী এলাকায় ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে তিনি গণধোলাই হয়েছেন বাবলু। তবে পীরগাছা উপজেলার সীমান্তবর্তী আলীবাবা থিম পার্ক সংলগ্ন এলাকায় জুয়ার আসর থেকে চাঁদাবাজির চেষ্টাকালে জুয়াড়িদের হামলার ঘটনায় আলোচনায় আসে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে অননুমোদিত অনলাইন পোর্টালের প্রকাশ কার্যক্রম বন্ধ এবং ভুয়া সাংবাদিককে আইনের আওতায় আনার। তাদের মতে, সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড থাকা বাবলু শুধু পেশাদার সাংবাদিকতার মর্যাদাই ক্ষুন্ন করছে না, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও বড় হুমকি।
এ বিষয়ে জানতে রফিকুল ইসলাম লাবলু বলেন, আমি আপনার সাথে পরে দেখা করবো। আমার এতো বড় ক্ষতি করিয়েন না। দয়া করে প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন না বলে অনুরোধ করেন।