শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
মিজু সরকার হৃদয়- নিজস্ব প্রতিনিধি.
পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কিশোরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলার একটি বৃদ্ধাশ্রমে ইফতার সামগ্রী নিয়ে হাজির। বুধবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় বড়ভিটা ইউনিয়নের “নিরাপদ বৃদ্ধাশ্রম”-এ মানবিক এই ইউএনও হাজির হন। মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া। আশ্রমে বসবাসরত বৃদ্ধ বাবা-মায়েদের সাথে বসে ইফতার করা, তাদের সুখ-দুঃখের গল্পে অশ্রুশিক্ত হয়ে যান তিনি।
জানা গেছে, আগে থেকে কোনকিছু না জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভিন্ন ধরনের ইফতার সামগ্রী নিয়ে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নে গড়ে ওঠা বৃদ্ধাশ্রমে ইফতারের আগ মূহুর্তে উপস্থিত হন। ইফতার সামগ্রীর মধ্যে ছিল- সৌদি খেজুর, মৌসুমি ফলমূল, জিলাপি সহ ইফতারের জন্য দৈনন্দিন তৈরি করা খাদ্য, শরবত ও বিরিয়ানি। হঠাৎ ইউএনওকে আশ্রমে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আশ্রমের বাসিন্দারা। তাদের কৃতজ্ঞতার দোয়া ও কান্নায় অশ্রুসিক্ত হয়ে পরেন ইউএনও সোহানিয়া।
আশ্রমের বৃদ্ধ হাসান আলী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে আছি। সবসময় ভালো খাবার সুযোগে জোটে না। আজকের ইফতার পেয়ে আমরা খুব আনন্দিত। মোকলেছুর রহমান বলেন, পরিবার আমাকে এখানে রেখে গেছে। কষ্টে দিন কাটে, তেমন কেউ খোঁজ নেয় না। আজ ভালো ইফতার পেয়েছি, মনটা ভরে গেল। বৃদ্ধ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি পাঁচ মাস ধরে এখানে আছি। পরিবার থেকে কেউ খোঁজ নেয়নি। আজ ইউএনও ম্যাডাম আমাদের সঙ্গে ইফতার করলেন, আল্লাহ যেন তাকে উত্তম প্রতিদান দেন।
নিরাপদ বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা সাজিউর রহমান সাজু জানান, নিজ উদ্যোগে তিনি এই আশ্রমটি গড়ে তুলেছেন। এলাকার ও বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অসহায় ও ছিন্নমূল বৃদ্ধরা এখানে আশ্রয় পান। ইউএনও’র এই উদ্যোগ আশ্রমের জন্য বড় সহায়তা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, আমি আগেও এখানে এসেছি। অসহায় বাবা-মায়েদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আজ তাদের সঙ্গে ইফতার করতে পেরে ভালো লাগছে। সমাজের বিত্তবানদের আহ্বান জানাই—তারা যেন বৃদ্ধাশ্রমে থাকা মানুষদের পাশে দাঁড়ান। কোনো সন্তানের উচিত নয় তার বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো। তিনি আরও বলেন, চাকরির সুবাদে তার নিজের বাবা-মা তার সঙ্গে থাকেন না। তাই বৃদ্ধাশ্রমে এসে তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরে তার নিজেরও ভালো লেগেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান, সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লতিফুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। রমজানের এই পবিত্র সন্ধ্যায় মানবিকতার স্পর্শে মুখর হয়ে ওঠে বৃদ্ধাশ্রম প্রাঙ্গণ। ইফতারের খাবারের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল ভালোবাসা আর সম্মানের এই মুহূর্ত।